সারাদেশ

ঘন কুয়াশায় নৌরুট-মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত, বাস খাদে পড়ে আহত ২০

নিজস্ব প্রতিবেদক, মানিকগঞ্জ :

মাঘের শুরুতেই দেশজুড়ে বেড়েছে শীতের দাপট। পাশাপাশি বেড়েছে কুয়াশার তীব্রতা। গত দু’দিন শহর থেকে গ্রাম সবখানে তীব্রভাবে জেঁকে বসেছে শীত। আর ঘন কুয়াশায় স্থবির হয়ে গেছে চারদিক।

ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক ও মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। রাতের প্রথম প্রহরে হঠাৎ করে ঘন কুয়াশায় ঝাপসা হয়ে গেছে চারদিক। ফলে মহাসড়কগুলোতে সব ধরনের যান চলাচলে ব্যাহত হচ্ছে। সেই সঙ্গে দেখা দিয়েছে দুর্ঘটনা আশঙ্কা।

ঘন কুয়াশায় দুর্ঘটনা এড়াতে পাটুরিয়া নৌ-রুটে গত দু’রাতে কয়েক দফা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকলেও মহাসড়কে ঘটছে নানা দুর্ঘটনা।

সোমবার সকালের ঘনকুয়াশায় মহাসড়কের পুখুরিয়া এলাকায় ঢাকামুখী দ্রুতগতীর যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পার্শ্ববর্তী খাদে পড়লে ২০ যাত্রী হতাহত হয়। গুরুত্বর আহত ২ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরন করা হয়েছে বলে বরংগাঈল হাই-ওয়ে পুলিশ ইন্সপেক্টর বাসুদেব সিনহা নিশ্চিত করেছেন।

অপর দিকে, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুটে কুয়াশাজনিত কারনে দুর্ঘটনা এড়াতে চলতি সপ্তাহের প্রথম দু’রাতে প্রায় ২০ ঘন্টা ফেরি চলাচল বন্ধ রাখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে ফেরি পারের অপেক্ষায় উভয় ঘাট এলাকায় আটকে পড়ে শতশত যানবাহন। আটকে পড়া এসব যানবাহনের শ্রমিক ও যাত্রীসাধারণ শৈতপ্রবাহের হাড়-কাপানো শীতে চরম দুর্ভোগ পোহায়।

ফেরি সেক্টর বিআইডব্লিউটিসি আরিচা অঞ্চলের ডিজিএম জিল্লুর রহমান জানিয়েছেন, গত শনিবার ও রোববার দিবাগত মধ্য রাতে কুয়াশার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় এরুটের কয়েক দফায় প্রায় ২০ঘন্টা ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এসময় কয়েকটি ফেরি ফেরি মাঝ নদীতে নৌঙর করে থাকতে বাধ্য হয়। সকাল কুয়াশা কেটে গেলে পুনরায় ফেরি চলাচল শুরু হয়।

ফেরি পারের অপেক্ষায় থাকা বিভিন্ন যানবাহন শ্রমিকরা জানান, যাত্রীবাহী বাস- কোচ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ফেরি পারাপার হলেও আমাদের ঘন্টারপর ঘন্টা অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। এতে রাজধানী ঢাকার সাথে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের সার্বিক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।

শিবালয় থানা ওসি ফিরোজ কবির জানিয়েছেন, পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় যানজট এড়াতে উথলী সংযোগ মোড় থেকে আরিচার দিকে রাস্তার পার্শ্বে পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে সারিবদ্ধ অপেক্ষায় রাখা হচ্ছে।