সারাদেশ

পাটুরিয়ায় ঘরমুখো মানুষের চাপ অব্যাহত, হাজারো যাত্রী নিয়ে ঘাট ছেড়েছে ৩ টি ফেরী

নিজস্ব প্রতিবেদক, মানিকগঞ্জ :

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চমুখী প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করতে চরম ভোগান্তি নিয়েই বাড়ি ফিরছে হাজারো মানুষ ।

আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ থাকায় বিভিন্ন উপায়ে পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় এসে জড়ো হচ্ছে এসব মানুষ। ফলে ফেরিঘাট এলাকায় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছে ঘাট কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (১০ মে) সকাল ৯টার দিকে পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় দেখা যায়, ভোর থেকে ঘরমুখী হাজার হাজার যাত্রী ঘাট এলাকায় এসে জড়ো হয়েছে। পাটুরিয়ার ৪ নম্বর ফেরিঘাট থেকে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স ও একটি লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ হাজারো যাত্রী নিয়ে পাটুরিয়া ঘাট থেকে দৌলতদিয়া ঘাটের উদ্দেশে সাড়ে ৯টায় ছেড়ে যায় চন্দ্রমল্লিকা ও হাসনাহেনা ফেরি। এরপর ১১টার দিকে বনলতা নামের আরেকটি ছোট ফেরি ঘাট ছেড়ে যায়।

অন্যদিকে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে পাটুরিয়া ঘাটে আসে তিনটি ফেরি। ফেরি পল্টুনে ভেড়া মাত্রই যাত্রীরা হুড়মুড় করে উঠে পড়ে। এতে স্বাস্থ্যবিধি কিংবা সামজিক দূরত্বের কোনো বালাই ছিল না। ঝুঁকি জেনেও বাড়ি ছুটছে এসব মানুষ। স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করাই যেন তাদের একমাত্র লক্ষ্য। এক থেকে দেড় ঘণ্টা পরে পাটুরিয়া থেকে ফেরি ছাড়ার কারণে ঘাট এলাকা হয়ে ওঠে জনাকীর্ণ।

তবে ফেরিতে গাদাগাদি করে নৌপথ পারাপারের সময় যাত্রীদের অনেকের মুখে মাস্ক থাকলেও ছিল না সামজিক দূরত্ব। এতে উপেক্ষিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। যে কারণে বাড়ছে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিও।

এ ছাড়া পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্য পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের দেখা গেছে। মানিকগঞ্জে তিনটি পয়েন্টে বিজিবি মোতায়েন করা হয়। তবে বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় জড়ো হচ্ছে হাজারো ঘরমুখী মানুষ।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন আরিচা কার্যালয়ের ডিজিএম মো. জিল্লুর রহমান বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুয়ায়ী পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে জরুরি সেবায় অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি পারপার করার সময় ফেরিতে উঠে পড়ছে যাত্রীরা। জরুরি সেবায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে দুটি ফেরি চলাচল করছে। তবে শিমুলিয়া ফেরিঘাটে মতো পাটুরিয়া ঘাট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের কোনো নির্দেশনা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।