আজকের সেরা সংবাদ

বাইডেনের নেতৃত্বে ওয়াশিংটন-ঢাকা সম্পর্কে যোগ হবে ভিন্নমাত্রা

স্টার টোয়েন্টিফোর টিভি নিউজ ডেক্স :

চার বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে আবারও সরকার গঠন করতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। জো বাইডেনের নেতৃত্বে ওয়াশিংটন-ঢাকা সম্পর্কে ভিন্নমাত্রা যোগ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তারা বলছেন, রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর, অভিবাসন ইস্যুতে আরও নমনীয় হওয়ার মতো সুযোগ বাইডেন প্রশাসন থেকে মিলবে। চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষা করে, ওয়াশিংটনকে কৌশলগতভাবে পাশে রাখাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন তারা।

হোয়াইট হাউজের নতুন বাসিন্দা হচ্ছেন ডেমোক্র্যাট নেতা জো বাইডেন। তিনি এমন একটা সময় দায়িত্ব নিতে চলেছেন যখন, করোনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি অনেকটাই ভঙ্গুর। যা চাঙা করতে বিদেশি শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সেক্টরে দক্ষকর্মীর প্রয়োজন। ফলে বাংলাদেশকে এখনই প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের। পোশাক খাতের রফতানি বাড়ানোর প্রচেষ্টাও করতে হবে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, ‘বাইডেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তার প্রশাসন অভিবাসনের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে ট্রাম্প প্রশাসন থেকে অনেক বেশি নমনীয় হবে। রপ্তানির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আনুমানিক ৯০ শতাংশই হচ্ছে আমাদের তৈরি পোশাক।’

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় চীনের সঙ্গে বৈরি সম্পর্ক গড়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্রের। বাইডেন যা স্বাভাবিক করার প্রয়াস নিতে পারেন। এক্ষেত্রে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে একটা সমঝোতার আশা দেখছেন সাবেক এ কূটনীতিক।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, ‘প্রত্যাবাসন যাতে হয় সে চেষ্টা তো বাংলাদেশ সরকার করেই যাবেন, দ্বিপাক্ষিকভাবে, আঞ্চলিকভাবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে। সেই চেষ্টার পাশাপাশি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু না হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে যেখানে রাখতে হবে যুক্তরাষ্ট্র সে ধরণের ভূমিকা পালন করতে পারে। রাজনৈতিক সম্পর্ক, কূটনৈতিক সম্পর্ক এগুলো হচ্ছে স্টেবল রিলেশনশিপ। আমাদের যোগাযোগ আরও বাড়াতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে, যুক্তরাষ্ট্র সিনেটে, যুক্তরাষ্ট্র সুশীল সমাজের সাথে এবং বাইডেন প্রশাসনের সাথে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি ও গবেষকরাও মনে করছেন, ঢাকার কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের সময় এখন।

নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং গবেষক ড. কে এম ফয়সাল খান বলেন, ‘বাইডেন নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে আমাদের কিছুটা অ্যাডভান্টেজেস আসবে। কারণ আমাদের কর্মসংস্থান, বাসস্থান এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাগুলো রিপাবলিকানদের তুলনায় ডেমোক্রেটরা বেশি দিয়ে থাকে।’

ভারত বা অন্য কোনো দেশ নয়, জাতীয় স্বার্থে বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের তাগিদ দিয়েছেন তারা।