সারাদেশ

মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ‘ভুল রোগীর’ গর্ভপাত ঘটানোর চেষ্টার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, মানিকগঞ্জ :

মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে অন্তঃসত্ত্বা অসুস্থ এক নারীর গর্ভপাত ঘটানোর কথা থাকলেও তার পরিবর্তে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অন্য এক নারীর গর্ভপাত ঘটানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনা পর থেকে ভুক্তভোগী ঐ অন্তঃসত্ত্বা নারীর অবস্থা আশংকাজনক।

এঘটনায় বুধবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আরশাদ উল্লার কাছে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী জিয়াসমিনের চাচা লুৎফর রহমান।

হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাটুরিয়া উপজেলার গর্জনা এলাকার রফিকুল ইসলামের মেয়ে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা জিয়াসমিন আক্তার ২৪ জানুয়ারি মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের ২০ নম্বর বেডে ভর্তি হন। তার পাশের ২১ নম্বর বেডে যিনি ছিলেন তার গর্ভপাত করানোর কথা ছিল। অথচ মঙ্গলবার দুপুরে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ফাতেমা আক্তার জোর করে জিয়াসমিনের গর্ভপাতের চেষ্টা করেন।

স্বাস্থ্য সহকারীকে গর্ভপাতের নির্দেশ দানকারী গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. নাসিমা আক্তার এই ঘটনার দায় অস্বীকার করে বলেছেন ঘটনার সময় তিনি ওয়ার্ডে অন্য রোগী দেখছিলেন। এসব বিষয়ে আরেক কর্তব্যরত ডাক্তার রুমা আক্তারের সঙ্গে কথা বলতে বলেন তিনি।

ডা. রুমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বলেন, গাইনি ওয়ার্ডের ২০ এবং ২১ নাম্বার বেডে পাশাপাশি দুজন রোগী আছেন। ২১ নাম্বার বেডের রোগীর গর্ভপাত করানো হবে। সেভাবেই তার চিকিৎসা চলছে। তবে ভুলকরে ২০ নাম্বার রোগীকে মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ফাতেমা বেগম নিয়ে আসেন। ঘটনার পর থেকে ফাতেমার হদিস মিলছে না। মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আরশ্বাদ উল্লাহ বলেন, হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের ২০ এবং ২১ নম্বর বেডে দুজন রোগী পাশাপাশি ছিলেন। মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ভুল করে ২০ নম্বর বেডের রোগীকে নিয়ে গর্ভপাতের চেষ্টা করেন। রোগী কান্নাকাটি শুরু করলে গর্ভপাত ঘটানো থেকে বিরত থাকেন।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।