শিক্ষাঙ্গন

হরিরামপুরে ২ টি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের চাপ দিয়ে বেতন আদায়ের অভিযোগ

হরিরামপুর, (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ২ টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের থেকে বেতনসহ বিভিন্ন খাতে চাপ দিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ওই ২ বিদ্যালয়ে ৫০০ থেকে শুরু করে প্রায় ২০০০ টাকা আদায় করার অভিযোগ রয়েছে। তবে, চাপ দিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই দুই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

জানা যায়, করোনা মহামারির মধ্যে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির পুনর্বিন্যাসকৃত পাঠ্যসূচির আলোকে অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে মূল্যায়নের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। উপজেলার এম এ রাজ্জাক আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও রামকৃষ্ণপুর এম এ জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে বেতনসহ বিভিন্ন খাতে চাপ দিয়ে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে চলতি বছরের বেতনসহ বিভিন্ন খাতের জন্য ৫০০ থেকে প্রায় ২০০০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছেন।

কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সাথে কথা বলে জানা যায়, এম এ রাজ্জাক আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে বেতন, পরীক্ষার ফি বাবদ টাকা নেয়া হচ্ছে। টাকা পরিশোধ না করলে পরবর্তী ক্লাসে উঠানো হবে না বলেও বলা হচ্ছে শিক্ষার্থীদেরকে এমন অভিযোগও রয়েছে। এছারা, পরীক্ষার্থীদের নিজেদের খরচে খাতা,কলম কিনে বাড়িতে পরীক্ষা দিতে হবে, বিদ্যালয় হতে শুধুমাত্র প্রশ্নপত্র দেয়া হয় বলেও জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা। অপরদিকে রামকৃষ্ণপুর এম এ জলিল উচ্চ বিদ্যালয়েও বেতনসহ বিভিন্ন খাতে টাকা আদায় করা হচ্ছে।

এছাড়া, বিদ্যালয় বন্ধের পূর্বে যারা ভর্তি হয়নি, তাদের ভর্তি ফি বাবদও টাকা আদায় করা হচ্ছে। একবারে যারা সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করতে পারছেন না তাদের কিস্তিতে টাকা পরিশোধের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু করোনার প্রভাবে আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় টাকা পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেকে।

মানিকনগর গ্রামের সুনিতা সাহা বলেন, তার নাতনি রামকৃষ্ণপুর এম এ জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এগারো মাসের বকেয়া বেতনসহ ১৯৮০ টাকা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তিনি ৫০০ টাকা পরিশোধ করেছেন। বাকি টাকা তাকে অ্যাসাইনমেন্ট শেষ হওয়ার আগেই পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। মানিকনগর গ্রামের সাঈদ বলেন, তার ভাগ্নে রামকৃষ্ণপুর এম এ জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণিতে পড়ে। বকেয়া বেতনসহ সর্বমোট ১৭৬০ টাকা হলেও তিনি ১৪০০ টাকা পরিশোধ করেছেন। আন্ধারমানিক গ্রামের গোপীনাথ দত্ত জানান, তার ছেলে এম এ রাজ্জাক আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণিতে পড়ে। পরীক্ষার ফি ও বেতন বাবদ তিনি দুই বারে ১৫০০ টাকা পরিশোধ করেছেন। তাকে টাকার কোন রশিদ দেয়া হয়নি বলেও জানান।

এম এ রাজ্জাক আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশির জানান, ছয় মাসের বেতন ও পরীক্ষার ফি বাবদ তার কাছে স্কুল থেকে ১৮০০ টাকা চেয়েছে। আর্থিক অনটনের কারণে সে টাকা দিতে না পারায় তাকে অ্যাসাইনমেন্টের প্রশ্ন দেয়া হয়নি।

এম এ রাজ্জাক আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ওসমান মিয়া বলেন, যাদের সামর্থ্য আছে, তাদের কাছ থেকেই টাকা নেয়া হচ্ছে। এছাড়া, অনেক শিক্ষার্থীকে কোন ফি ছাড়াই এখনকার মতো পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

রামকৃষ্ণপুর এম এ জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আছলাম হোসেন বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বলেই যারা দিতে পারছে তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নিগার সুলতানা চৌধুরী বলেন, যাদের বেতন দেয়ার সামর্থ রয়েছে তাদের নিকট থেকেই টাকা নিতে বলা হয়েছে। টাকার জন্য কাউকে চাপ দেয়া যাবে না। কেউ টাকা দিতে না পারলেও তাকে অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

জেলা শিক্ষা অফিসার মো. ফরিদুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, যার যতটুকু দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে ততটুকুই নিতে বলা হয়েছে। টাকার জন্য কারো উপর চাপ সৃষ্টি করা যাবে না।